দন্ডকারন্য সৃষ্টি রহস্য — (ধারাবাহিক) পর্ব ৫

সুজিত ভারতী

প্রণিপাত করে দন্ড বললেন, ” হে ঋষি শ্রেষ্ঠ আপনি বেদজ্ঞ, আপনি অন্তর্যামী, তাই আমার আসার কারণ আপনি আগেই জেনে গেছেন, আপনার অগোচর কিছুই নেই। হে গুরুদেব! আপনি যদি অনুগ্রহ করে আমার রাজ্যেই আপনার আশ্রম স্থাপন করেন আমি ধন্য হই, ধন্য হয় আমার এই মধুমন্ত রাজ্য। আপনার বিচরনে আমার রাজ্য হবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধশালী।কৃপাকরে আপনি যদি এই রাজ্যেই থাকেন “—

কৃতাঞ্জলি পুটে দন্ড, হাঁটু মুড়ে দেবারীগুরু শুক্রাচার্য কে অনুনয় বিনয় করতে থাকলেন।এবার চোখ মেলে তাকালেন শুক্রাচার্য। এবং সহাস্য বদনে একটি হাত সস্নেহে রাখলেন দন্ডর মাথায়।

তারপর বললেন “তোমার আপ্যায়নে আমি প্রীত হয়েছি রাজন, তুমি যখন অনুরোধ করছ, বেশ! তোমার ইচ্ছাই পূরণ হোক, আমি বিন্ধ্যপর্বতের দক্ষিণ আরণ্যকে দীঘির পার্শ্ববর্তী অঞ্চল কেই আমার আশ্রম করার জন্য চিহ্নিত করলাম। ”

বিধাতার অদৃশ্য খেলায় শুক্রাচার্য এবং রাজা দন্ড অজান্তেই এই ভুল করে বসলেন। শুক্রাচার্য অন্তর্যামী সে হয়ত বুঝতে পারলো, কিন্তু বুঝেও কিছু করার নেই তাঁর। বিশ্বপিতার অঙ্গুলিহেলন যে ভাবে নির্দেশিত হবে ভবিষ্যত জেনেও সেই পথেই চলতে হবে। নয়তো রচিত হবেনা দন্ডের ইতিহাস, যাই হোক -পূর্নানন্দে দন্ড ঋষি শুক্রাচার্যের সম্মতি বানী শুনে প্রনাম জানিয়ে সেই কক্ষ ত্যাগ করলেন।

বিন্ধ্য পর্বতের দক্ষিণ প্রান্তে স্ফটিক স্বচ্ছ এক সুবিশাল সরোবর, চারপাশে ঘেরা শ্বাপদসংকুল অরণ্য। সেই বিরল জনপদে দন্ড তাঁর সৈন্য দল প্রেরণ করে গুরু শুক্রাচার্যের আশ্রম নির্মাণে তৎপর হলেন। আর কিছু দিনের মধ্যেই গহীন অরণ্য ভূমি, শুক্রাচার্যের পূন্য তপভূমিতে পরিনত হবে। সেখানে নির্জনে নিরালায়, ঋষি তাঁর সাধন পূজনে মগ্ন হয়ে থাকবেন।

বেশ কিছু দিনের নিরলস প্রচেষ্টায় নির্মিত হল শুক্রাচার্যর আশ্রম প্রাঙ্গণ। গাঢ় সবুজ অরণ্য ও পর্বতের কোলে আশ্রমের মাথায় ঘন নীল আকাশের চাঁদোয়া, স্বচ্ছ জলাশয় যেন নীলাম্বরের নীল মেখে হয়েছে নীলেশ! শান্ত জলে রাজ হংসের দল গলা বাঁকিয়ে ভেসে চলেছে, নানা ধরনের পাখির কূজনে মুখরিত বৃক্ষদল। রসাল ফলের বৃক্ষে উপচে পড়া ফলের সমাহার। সচকিত হরিনের দল মগ্ন তৃন চয়নে। ছোট ছোট পর্ন কুটির শরীরে তাদের লতা আর ফুলের কল্কায় ভরা।

এমন সুন্দর ও মনোরম স্থানে দেবারী গুরু শুক্রাচার্য তাঁর দুই কন্যা, বড় পুত্রী অরজা ও কনিষ্ঠা দেবযানী কে নিয়ে বসবাস করতে শুরু করলেন।

দেখতে দেখতে দূর দূরান্ত থেকে যক্ষ, গন্ধর্ব, নাগ, এমনই শত সহস্র শিক্ষার্থীর ভিড় হতে লাগলো মধুমন্ত নগরীতে ঋষি শুক্রাচার্যের আশ্রমে।তারা নানাবিধ শিক্ষা লাভের আশায় উপস্থিত হলো। ক্রমশ চলবে……….

Please follow and like us:
0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *