ব্যবহারিক জীবনে রঙের প্রভাব (ধারাবাহিক)

(শেখরবাবুর বিভিন্ন লেখা বিভিন্ন সময় একাধিক পত্রিকায় প্রকাশিত। এখানে তারই সংকলন প্রচেষ্টা। এই লেখাটি প্রকাশিত হয়েছিল শেখরবাবুর নিজের পত্রিকা ‘জ্যোতিষ বীক্ষণ’-এ)

 

স্বাস্থ্য ও মনের ওপর রঙের প্রভাব প্রচন্ড। আকর্ষক রঙের পরিবেশে মনও থাকে আনন্দে পরিপূর্ণ। একঘেয়ে ভাব কেটে যায়। নিরাশা দূর হয়। বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মে সিঁদুরের লাল, হলুদের পীত, পাতার সবুজ, আটার সাদা রঙ ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়। এগুলি সবই স্বাস্থ্য, স্ফূর্তি ও কল্যানের জন্য।

সূর্যের রশ্মিতে সকল রঙের সংমিশ্রণ থাকে। সূর্যের রশ্মি থেকে রামধনুর সাতটি রঙ আমাদের পরিবেশ ও মনকে প্রভাবিত করে। সূর্যের ছত্রছায়ায় নানা বনস্পতি এবং জীব যেরকম ভাবে লালিতপালিত হয়, সেই রকম ভাবে সবুজ, লাল ও নীল রঙ মানুষকে সুস্থ, সবল, যশস্বী ও গৌরবান্বিত করে। লাল রঙ সৌভাগ্যের চিহ্ন ও সবুজ এওং ব্যক্ত করে শুভেচ্ছে।

 

লাল রঙ ঃ

হিন্দু ধর্মে ধর্মীয় রঙ হলো লাল। এই লাল রঙকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রায় প্রতিটি

মাঙ্গলিক কাজে লাল রঙের ব্যবহার হয়ে থাকে। প্রায় সকল দেবদেবীর মূর্তিতে লাল সিঁদুরের তিলক পরানো হয়। লাল তিলক সৌর্য ও বিজয়ের প্রতীক। লাল তিলক লাগালে ব্যক্তির মধ্যে তেজস্বিতা, পরাক্রম, গৌরব ও যশের অস্তিত্ব আছে বলে মনে করা হয়। গৌরবের রঙ হলো লাল। সুস্বাস্থ্য ও শক্তি মানুষের শরীরে গোলাপি আভা থেকেই প্রকাশিত হয়।

প্রাচীন কাল থেকেই লাল রঙের বিশিষ্ট স্থান রয়েছে ভারতীয় নারীর জীবন ও শৃঙ্গারে। সধবা মহিলারা মাথায় সিঁদুর বা লাল টিপ পরেন। নারীর গৌরব, সম্মান, সৌভাগ্য এবং স্নেহ – লাল রঙ থেকেই বিকশিত হয়।

লাল রঙ শক্তি, উৎসাহ, স্ফূর্তি ও পরাক্রমের প্রতীক। আনন্দ প্রকাশের রঙও লাল। বিবাহ, জন্ম ও উৎসবে আনন্দের মনোভাব ব্যক্ত হয় লাল রঙ দিয়েই।

ধনদাত্রী দেবী লক্ষীও পরেন লাল বস্তু। লাল রং ধনসম্পদ, বিপুল সম্পত্তি সমৃদ্ধির শুভ প্রকাশ করে। মা লক্ষীকে লাল পদ্মফুলের ওপর বসানো হয়। এই লাল পদ্ম হলো সমৃদ্ধির প্রতীক।

(ধারাবাহিক চলবে। পরের রঙ গেরুয়া।)

 

Please follow and like us:
0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *