ব্যবহারিক জীবনে রঙের প্রভাব — শেখর বন্দ্যোপাধ্যায়

(শেখরবাবুর বিভিন্ন লেখা বিভিন্ন সময় একাধিক পত্রিকায় প্রকাশিত। এখানে তারই সংকলন প্রচেষ্টা। এই লেখাটি প্রকাশিত হয়েছিল শেখরবাবুর নিজের পত্রিকা ‘জ্যোতিষ বীক্ষণ’-এ)

ব্যবহারিক জীবনে রঙের প্রভাব

(আগে লেখা ছিল লাল রঙ নিয়ে)

এবার

গেরুয়া

গেরুয়া হলো আধ্যাত্মিক প্রকাশের রঙ। এটি জ্ঞান, ত্যাগ, তপস্যা ও বৈরাগ্যের প্রতীকও বটে। হিন্দু যোগী, তপস্বী, সাধু বৈরাগী সকলেই গেরুয়া বস্ত্র পরেন। মনে হয় তারাও যেন অন্ধকার থেকে আলোর দিকে, মৃত্যু থেকে অমৃতের দিকে এবং অজ্ঞানতা থেকে আলোর দিকে অগ্রসর হয়ে চলেছেন।

যেমন অগ্নি থেকে জ্যোতির প্রকাশ, তেমনই গেরুয়া বস্ত্রধারী যোগীও আধ্যাত্মিক জ্যোতির মাধ্যমে প্রজ্বলিত হয়ে ওঠেন। গেরুয়া বস্ত্রধারী সাধু দেবতাদের গুণগুলিকে নিজের মধ্যে বিকিশিত করতে চান। এই রঙ শুভ সংকল্পের সূচক।

হলুদ রঙ

জ্ঞান, বিদ্যা ও বিবেকের প্রতীক হলো হলুদ রঙ। এই রঙ সুখ, শান্তি, অধ্যন, জ্ঞান, যোগ্যতা, একাগ্রতা, এবং মানসিক ও বৌদ্ধিক উন্নতিরও প্রতীক। হলুদ বা বাসন্তী রঙ মস্তিষ্ককে প্রফুল্ল ও উত্তেজিত করে। জ্ঞানের প্রতি আগ্রহ আনে। মানুষের মনে নতুন নতুন চিন্তাধারা তৈরি করে এই বাসন্তী রঙ। বসন্ত ঋতু মনের আনন্দদানকারী জ্ঞানবর্ধক ঋতু। ভগবান শ্রীবিষ্ণুর পোশাকের রঙ হলুদ। তাঁর পীত বস্ত্র অসীম জ্ঞানের দ্যোতক। ভগবান শ্রী গণেশের ধুতিও হলুদ রঙের। সকল মঙ্গল কার্যে হলুদ ধুতি পরা গনেশ, বিঘ্ননাশকারী বলে গণ্য হন।

 

 

 

Please follow and like us:
0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *