Thursday, July 29, 2021

একুশে টেলিভিশন ছিলো নব্বই দশকে বেড়ে ওঠা মানুষদের NETFLIX

একুশে টেলিভিশনে মি. বিন, WWF Wrestling, আলিফ লায়লা, থিফ অফ বাগদাদ, ক্লাসিক কার্টুন, ম্যাকগাইভার, নূরজাহান, ধারাবাহিক নাটক-“বন্ধন”, Wild life documentary, ভৌতিক টেলিফিল্ম, গেইম শো আরো কত কি যে দেখতাম !

চ্যানেলটির বিশেষত্ব ছিল এটাই যে, সব বয়সী মানুষের জন্য অনুষ্ঠানমালা প্রচার হতো। তাই সেই সময়ে এর একটা বিরাট fan base ছিল। যাত্রা শুরুর পর থেকেই বিশেষত: সংবাদের জন্য একুশে টেলিভিশনই হয়ে ওঠেছিল সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান। অনুষ্ঠান নির্মাণ ও প্রচারে বৈচিত্র্য, বাঙালি ও বাংলাদেশের নিজস্ব ঐতিহ্য, সংস্কৃতির অনুপম প্রতিচ্ছবি একুশে টেলিভিশনকে কোটি কোটি মানুষের সহজাত অনুভূতির সঙ্গে একাত্ম করে দিয়েছিল। বাংলাদেশের টেলিভিশন জগতে পরিবর্তন ও আধুনিকতার ধারা এসেছিল মূলত এই চ্যানেলটির হাত ধরেই৷

২০০০ সালের ১৪ই এপ্রিল ETV’র সম্প্রচার কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমদিকে একুশে টেলিভিশন উন্মুক্ত টেরিষ্টোরিয়াল টেলিভিশন কেন্দ্র হিসেবে সম্প্রচারিত হয়। শুরুতে একুশে টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন সাইমন ড্রিং এবং বার্তা সম্পাদক ছিলেন মিশুক মুনীর। স্বল্প সময়ে একুশে টিভির জনপ্রিয়তা একটি বিশেষ মহলের কোপানলে পড়ে। গণমানুষের হৃদয় জয় করা একুশে টেলিভিশনের অধিকার হরণ করা হয় ২০০২ সালের ২৯ আগস্ট। আইনী মারপ্যাঁচে ফেলে আদালত একুশে টেলিভিশন বন্ধের রায় দেয়। আদালতের রায়ের সঙ্গে সঙ্গে তৎকালীন সরকার মুহুর্তের মধ্যে ২০০২ সালের ২৯ আগস্ট একুশে টেলিভিশনের সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়। একুশে টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ আদালতের রায়ে তাদের সম্প্রচার কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়। সেই ঘোষণার, দিয়েছিলেন সেই সময়কার জনপ্রিয় সংবাদ উপস্থাপক “শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম”। এ সময় সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠে এবং পরদিন দেশের সকল পত্রিকায় বড় বড় লাল অক্ষরে প্রধান হেডলাইন ছিল “একুশে টিভি বন্ধ !”

৫ ম শ্রেণীতে ছিলাম তখন, ফুঁপিয়ে কান্না করেছিলাম নিউজটা শুনে। একুশে টেলিভিশন তখন একটা আবেগের নাম ছিল অনেকের কাছেই।

সকল আইনি বাঁধা কাটিয়ে ২০০৭ সালের ১৪ এপ্রিল আবার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছিল ETV। সাম্প্রতিক সময়ে চ্যানেলটির Intro music এখনো মাঝেমধ্যে nostalgia তৈরি করে।

( লেখকঃ- শমিত জামান সাংবাদিক কলামিস্ট)

সর্বশেষ খবর